কন্টেন্টে যাও

কার্তিকের বৃষ্টি

১.

ঘুম থেকে উঠেই দেখছি বৃষ্টি হচ্ছে। বেশ ভালোভাবেই হচ্ছে। একটু অসময়েই মনে হয়। নভেম্বর মাস শুরু হয়েছে। নভেম্বর মাসে বৃষ্টি হয় কি হয় না সেটা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামানোর দরকার অবশ্য নাই। এর আগের বছর বা তার আগের বছর এমন সময়ে বৃষ্টি হয়েছে কিনা কিছুই মনে নাই। স্মৃতিশক্তি খুব একটা ভালো কখনোই ছিলো না আমার। এখন মনে হয় আরো খারাপ হয়েছে। মাত্র কলেজে উঠেছি, এই বয়সেই এই অবস্থা হলে পরে কি হবে কে জানে। যা হওয়ার হবে। বৃষ্টি সবসময়ই আমার পছন্দের জিনিস। তবে আজ একটু অস্বস্তি লাগছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি নামলে শান্তি শান্তি মনে হয়, কিন্তু এই শীতের আগ দিয়ে বৃষ্টিকে কেন যেনো খুব একটা ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে অসময়ে বাড়িতে অতিথি চলে এসেছে। আসলেই অসময় কিনা সেটাও একটা চিন্তার বিষয়। হয়তো এরকম সবসময়ই হয়, আমি জানিই না। চোখের সামনে কতোকিছুই তো ঘটে যায় আমাদের, তাদের কয়টাই বা খেয়াল করি আমরা। আমিও মনে হয় খেয়াল করি নাই এই ব্যাপারটা। যাই হোক, পড়ার টেবিল থেকে উঠলাম, আর বসে থাকতে ভালো লাগছে না। সামনে কলেজে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা। দিনের অনেকটা সময় এই পড়ার টেবিলে বসে কাটাই। সামনে একগাদা বই বের করা থাকে। হাতে থাকে মোবাইল, কানে থাকে ইয়ারফোন। ইয়ারফোনে গান বাজতে থাকে আর আমি মোবাইলে গুতাগুতি করতে থাকি। কখনো গেম খেলি, কখনো নেটে ঢুকে ফেসবুকে ঢুঁ মারি আবার কখনো বা কারো সাথে এসএমএস চালাচালি হতে থাকে। কিছু না কিছু একটা চলেই। আর সামনের বইগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা যেভাবে ছিল সেভাবেই পড়ে থাকে। বারান্দায় চলে আসলাম। বৃষ্টির বেগ একটু কমেছে। বারান্দার গ্রিলের পাশে দাঁড়ালে গায়ে হালকা বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়া যায়। আশেপাশের পরিবেশ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, অস্বস্তিকর ঠাণ্ডা। এটাই মনে হয় বর্ষা আর শীতের বৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য। সামনের রাস্তা দিয়ে রিকশা ভালোই চলাচল করছে। রিকশাওয়ালাদের বিরাম নাই, বৃষ্টির মধ্যেও তাদের কাজ তারা করে যাচ্ছে। ইজিবাইকও দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝেই, সেটার চালকদের অবশ্য খুব একটা ভিজতে হচ্ছে না। রাস্তার পাশে ফুটপাতে একটা মেয়েকে দেখা যাচ্ছে দাঁড়িয়ে আছে। স্কুলের ইউনিফর্ম পড়ে আছে বলে সহজেই চোখে পড়ে। এখন স্কুল-কলেজ সব বন্ধ, আশেপাশের কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খোলা নাই। ঈদ-পূজার ছুটি চলছে, আগামীকাল থেকে খোলা শুরু করবে। আজকে এই মেয়ে ইউনিফর্ম পড়ে করে কি? বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে ভিজছে। ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ে মনে হয়। ইউনিফর্মটা চেনা না আমার। কোন স্কুল কে জানে। মেয়েটা কি করে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলাম বারান্দায়। সম্ভবত কারো জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে, তারপর অস্থির হয়ে পায়চারি করছে, আবার স্থির হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অপেক্ষা করা বড়ই কষ্টকর কাজ। একটা ইজিবাইক এসে থামলো মেয়েটার সামনে। ইজিবাইকের চালক মাথা বাইরে বের করে সম্ভবত মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলো কোথাও যাবে কিনা। মনে মনে হাসি পেয়ে গেলো। আহা, না ডাকতেই গিয়ে জিজ্ঞেস করে। লোকটা তো দেখি ভালোই জনদরদী। একটা ছেলে এরকম দাঁড়িয়ে থাকলে কি এই লোক কাজটা করতো? মেয়েটা মাথা নাড়লো, সে যাবে না কোথাও। তাহলে আমার ধারণাই ঠিক, কারো জন্য অপেক্ষা করছে। কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে কে জানে, বৃষ্টিতে জামাকাপড় ভিজে গেছে পুরোই। কিন্তু সেটা নিয়ে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মেয়েটা রাস্তার যে পাশে দাঁড়িয়ে তার উল্টো পাশে একটা গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। মেয়েটা কি এই গাড়ির জন্যই অপেক্ষা করছিল নাকি? না মনে হয়, সে এগিয়ে আসছে না, এখনো আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে। গাড়িটা মনে হয় নতুন একদম অথবা নিয়মিত যত্ন করা হয়। পুরো বডি লাল রং করা, চকচক করছে। গাড়ির দরজা খুলে দু’জন লোক নামলো। খুব একটা বেশি বয়স না, ইউনিভার্সিটিতে পড়ে মনে হয়। গাড়িতে হাই ভলিউমে কোন মিউজিক চলছে, এতো দূর থেকেও শুনতে পারছি। একজন মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বৃষ্টিকে ঠেকানোর চেষ্টা মনে হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, ছাতা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মানুষের হাত যথেষ্ট বড় না। তাই, হাত দিয়ে কাজ হচ্ছে না, গায়ে যা বৃষ্টি পড়ার পড়ছেই। আরেকজন এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। কাউকে খুঁজছে মনে হয়। মাথায় হাত দিয়ে যে দাঁড়িয়ে ছিলো সে মাথা থেকে হাত নামিয়ে পাশের জনকে ডাকলো, আঙ্গুল তুলে মেয়েটাকে দেখিয়ে কিছু বললো। নিশ্চয়ই মজার কিছু হবে। কারণ, দু’জনকেই দেখলাম হাসতে হাসতে গাড়িতে উঠলো। গাড়িটে স্টার্ট দিয়ে সাথে সাথেই হুঁশ করে চলে গেলো। যাওয়ার সাথে সাথে আমার মনে হলো, কথাটা মজার কিছু ছিলো না, কুৎসিত কোন রসিকতা ছিল। লম্বা একটা নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটার দিকে তাকালাম আবার। আরেকটা ইজিবাইক এসে থেমেছে মেয়েটার সামনে। মেয়েটা এগিয়ে এসে সেটার পাশে দাঁড়ালো। সেটার পিছনে একটা লোক বসে আছে। মেয়েটা হেসে লোকটাকে কিছু একটা বলে ইজিবাইকে উঠে লোকটার পাশে বসলো। লোকটাকেও হাসতে দেখলাম। ইজিবাইক চলতে শুরু করলো। ঘুম পেয়েছে মনে হয়, হাই উঠলো আমার। রুমের ভেতরে এসে টিউবলাইটটা বন্ধ করে দিলাম। কাঁথা মুড়ি দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। বিছানাটাও পুরো ঠাণ্ডা হয়ে আছে। মোবাইলে এলার্ম দিয়ে সেটা মাথার পাশে রেখে চোখ বন্ধ করলাম। বৃষ্টির দিনে ভালো ঘুম হওয়ার কথা।

২.

গত বিশটা মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আবিরের দেখা নেই। বলেছিল ঠিক এগারোটার সময় আসবে। এখন বাজে এগারোটা দশ। বৃষ্টিও আর নামার সময় পেল না, বেছে বেছে আজকেই নামা লাগলো। সেই সকাল থেকে ঝরছে তো ঝরছেই। পুরাই বিরক্তিকর। বৃষ্টি নামবে আষাঢ় মাসে। এই কার্তিক মাসে বৃষ্টি নামার দরকারটা কি? এতো বৃষ্টি দিয়ে কি হবে? বৃষ্টিতে ভিজছি সেই কখন থেকে। গায়ের কাপড় সব গেছে ভিজে। জ্বর আসবে নির্ঘাত। এসে গেছে নাকি কে জানে। প্রচণ্ড শীত করছে। ঠাণ্ডায় শরীর কাঁপছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এমন করে ভিজছি মানুষে দেখে কি না কি ভাববে। এই আবিরটার আক্কেল জ্ঞান কখনই মনে হয় আর হবে না। কতবার করে বলে দিলাম ঠিক সময় মতো আসতে। তাও কোন দেখা নেই। কালকে রাতে কল করে বললো,

- জান, কালকে তোমাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরবো। আসতে পারবা না?

- কালকেই?

- হ্যাঁ জান, কালকেই। কেন তোমার কি কোন সমস্যা আছে নাকি?

সমস্যা তো আছেই। বাসা থেকে বের হবো কি বলে? স্কুলও ছুটি। কিভাবে বের হবো সেটা পড়ে দেখা যাবে। আবির এতো শখ করে বলছে ঘোরার কথা, আমি কিভাবে না বলি! বললাম,

- নাহ। সমস্যা নেই। আমি চলে আসবো। কোথায় দেখা করবা?

আবির জায়গার কথা বললো। বললো যে, এগারটার সময় থাকবে ওখানে। বললাম,

- এগারটা, শিউর? তোমার তো লেট করা স্বভাব। সবকিছুতেই লেট করো।

- আরেহ না, এগারটার সময়ই থাকবো। তুমি চলে এসো।

- ঠিক আছে জান। লাভ ইউ।

- আমিও তোমাকে ভালোবাসি। জানো না তুমি?

- হুম, জানি তো?

- কতটুকু জানো? আমি কতটা ভালোবাসি তোমাকে?

- অনেক, অনেক…

- হাহাহা…

- হাসছো কেন?

- এমনি। হাসতেও পারবো না?

- ধুরো, ফোন রাখো। কালকে দেখা হবে। এগারোটার সময় থেকো কিন্তু।

- থাকবো।

- বাই।

- ওকে জান। বাই।

মাসখানেক ধরে আবিরের সাথে রিলেশন আমার। খুবই চমৎকার মানুষ আবির, খুবই কেয়ারিং। আমার কোন ও কথাই ফেলে না। সবসময় খোঁজ রাখে আমার, কেমন আছি, কি করছি। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছু ছেড়েছুড়ে দিয়ে আবিরের কাছেই চলে যাই। মানুষটা এতো দেরি করছে কেন? কোন বিপদ হলো না তো? মোবাইলে ব্যালেন্সও নেই। কল যে করবো তাও পারছি না। বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছে। সামনে এসে একটা ইজিবাইক দাঁড়িয়েছে। ড্রাইভার আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

- আফা, যাইবেন কোথাও?

আমি মাথা নাড়ালাম। ইজিবাইক চলে গেলো। সকালে বাসায় মিথ্যা বলে বের হয়েছি। আম্মুকে বলেছি আজকে স্কুল আছে। তাই স্কুল ড্রেস পড়ে, ব্যাগ নিয়ে বের হওয়া লেগেছে। সব ভিজে চুপচুপে। রাস্তার ওপারে লাল একটা গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। গাড়ির পাশে দু’টো লোক দাঁড়িয়ে আছে। একজন সবুজ একটা টি-শার্ট পড়ে আছে, টি-শার্টের বুকের কাছে একটা ফুটবলের ছবি, অন্যজন চেককাটা ফুলশার্ট। টি-শার্ট পড়া লোকটা আমার দিকে আঙ্গুল তুলে অন্যজনকে কিছু একটা বললো তারপর দু’জনই একসাথে হেসে উঠলো। কি কুৎসিত হাসি! নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে খারাপ কোন কথা বলে হাসাহাসি করছে। করুক গিয়ে, কি আর করার, দুনিয়া খারাপ মানুষে ভরে গেছে। সবাই তো আর আবিরের মতো ভালো না। লোক দু’টো গাড়িতে উঠে চলে গেলো। সাথে সাথেই একটা ইজিবাইক এসে সামনে দাঁড়ালো। ভিতরে আবির বসে আছে। আমি এগিয়ে গেলাম। মনে করেছিলাম দেরি করার জন্য আচ্ছা মতো ঝাড়ি মারবো। কিন্তু, আবির এমন সুন্দর করে একটা হাসি দিলো যে আমার মনটাই ভালো হয়ে গেলো। আমিও হেসে ফেললাম, বললাম,

- এই তোমার এগারোটা?

ইজিবাইকে উঠে আবিরের পাশে বসলাম। আবির আবার হাসলো। লোকটার কি চমৎকার করেই না হাসে। এতক্ষণ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্টকে এখন তুচ্ছ মনে হচ্ছে। ইজিবাইক চলতে শুরু করলো। আবির আমার হাত ধরলো। বললো,

- অনেক কষ্ট দিলাম তাই না? সরি… আসার জন্য কিছু পাচ্ছিলাম না। শেষে এই ইজিবাইক পেলাম।

- তোমার জন্য এই কষ্ট করা কিছুই না।

- তুমি তো পুরা ভিজে গেছো। জ্বর এসে যাবে তো।

- আরে নাহ, জ্বর আসবে না।

- না আসলেই ভালো… আরে তুমি তো দেখি স্কুল ড্রেসে এসেছো? স্কুল ড্রেস কেন?

কথা চলতে থাকলো। মানুষটার সাথে একসাথে বসে আছি, চারপাশে বৃষ্টি হচ্ছে। কি চমৎকার পরিবেশ। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। টুকটাক গল্প করতে করতে সময় যে কোথা দিয়ে কেটে গেলো খেয়ালই ছিলো না। হঠাৎ ইজিবাইক থেমে যাওয়াতে হুঁশ ফিরলো। বাইরে তাকালাম। বৃষ্টি পড়ছে এখনো, একটা বিল্ডিংয়ের পাশে এসে থেমেছি আমরা। জিজ্ঞেস করলাম,

- এখানে কি করবা?

- আমার এক বন্ধুর বাসা এখানে। এই বৃষ্টির মধ্যে তো বাইরে ঘোরা সম্ভব না। এখানে অপেক্ষা করি। বৃষ্টি থামলে বের হবো।

- ও, ঠিক আছে।

আমরা ইজিবাইক থেকে নামলাম। আবির ভাড়া মিটালো। বিল্ডিংয়ে ঢুকলাম। আবির লিফটের দিকে যেতে যেতে বললো,

- ছয় তলাতে যাবো।

আমি আবিরের পিছনে পিছনে এগুচ্ছি। গ্যারেজে দেখলাম একটা গাড়ি পার্ক করা। লাল রংয়ের, গাড়ির বডি ভেজা।

৩.

সম্পাকে নিয়ে লিফটে উঠছি। মেয়েটা কি সহজ-সরল। আমাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে। এরকম বোকা মেয়ে জীবনে দেখিনি। মনে মনে শিহরিত হচ্ছি আমি। গত একমাসের পরিশ্রম সফল হতে চলেছে। মনে হচ্ছে আনন্দের চোটে লাফ দেই। ছয় তলায় এসে লিফট থামলো। আমরা লিফট থেকে নামলাম। জহিরের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলাম আমি। দরজা খুললো জহিরই। বুকে ফুটবলের ছবিওয়ালা সবুজ একটা টি-শার্ট পড়ে আছে জহির। সম্পা সাথে সাথে বলে উঠলো,

- এইটা তোমার বন্ধু?

ব্যাপার কি? সম্পা চিনে নাকি জহিরকে! বললাম,

- হ্যাঁ, কেন?

জহির সাথে সাথে আমাকে বললো,

- ভিতরে ঢোক্‌।

বলেই এগিয়ে এসে সম্পার ঘাড় ধরে হ্যাঁচকা টানে ভেতরে নিয়ে গেলো। সম্পা শব্দ করারও সময় পেলো না।

৪.

ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে আছি। আবির এসে পড়বে যে কোন সময়। সামনের সোফায় রবিন বসে আছে। রবিন বললো,

- সবকিছু রেডি তো?

- হুম, রেডি।

- বোতলটা বাইর কর।

- আবির আসুক, তারপর বাইর করি।

- আরে, ও তো আসবেই। আমরা আগে একটু গলা ভেজাই।

- আচ্ছা দাঁড়া। নিয়ে আসি।

আমি দু’টো বোতল আর ফ্রিজ থেকে বরফ নিয়ে আসলাম। জিনিস ভালো, বিদেশ থেকে আনানো হয়েছে। রবিন বোতল খুলে তরল বস্তু গ্লাসে ঢালতে লাগলো। এমন সময় দরজায় কেউ নক করলো। আবির এসে গেছে। আমি যেয়ে দরজা খুললাম। আবিরের সাথের মেয়েটা আমাকে দেখেই বলে উঠলো,

- এইটা তোমার বন্ধু?

আবির বললো তাকে বললো,

- হ্যাঁ, কেন?

মেয়েটা আমাকে আগেও দেখেছে, গাড়ি থেকে যখন নেমেছিলাম তখনই মনে হয়। সময় নষ্ট করার মানে হয় না। আমি আবিরকে বললাম,

- ভিতরে ঢোক্‌।

বলেই মেয়েটার ঘাড় ধরে ভিতরে ঢুকালাম। ঘটনার আকস্মিকতায় মনে হয় মেয়েটা হতভম্ব। আবির ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো। আমি টান দিয়ে মেয়েটার কাঁধ থেকে ব্যাগ খুলে ফেললাম। ধাক্কা দিয়ে সোফার উপর বসালাম। মেয়েটা চিল্লিয়ে উঠলো,

- আপনি কে?! আমার গায়ে হাত দিচ্ছেন কেন? আমার ব্যাগ দিন।

- চুপ। একদম চুপ। একটা কথা বলবি তো খবর আছে।

মেয়েটা আবিরের দিকে তাকালো, চোখে বিস্ময়,

- আবির, এইসব কি হচ্ছে?

আবির হাসতে শুরু করলো। প্রথমবারের মত সম্পার কাছে আবিরের হাসি কুৎসিত মনে হলো। কিরকম দাঁত বের করে হাসছে! পুরো শরীর কাঁপছে হাসির সাথে। সম্পার কান্না পেয়ে গেলো। কি হচ্ছে এসব! বলে উঠলো,

- আবির, এখান থেকে চলো। আমি এখানে থাকবো না।

রবিন উঠে আসে এবার। বলে,

- থাকবো না বললেই তো হবে না। যাবিটা কই?

সম্পা ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে দৌড় দিতে যায়। আবির ধরে ফেলে। ধাক্কা দিয়ে আবার সোফার উপর ফেলে দেয়। চিৎকার করে শাসিয়ে বলে,

- একদম চুপ থাকবি। তুই কোথাও যেতে পারবি না।

মেয়েটা পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেছে মনে হয়। হা করে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। এবার ফুঁপিয়ে ওঠলো মেয়েটা। তাই দেখে আমি আর আবির হাসতে থাকি। আহ, আজ বহুত মজার দিন। দিনটাই ভালো আজকে। রবিন একটু একটু করে মেয়েটার দিকে আগাচ্ছে। মেয়েটা পিছাচ্ছে, চোখে মুখে প্রচণ্ড আতঙ্ক নিয়ে। একসময় যেয়ে দেয়ালে ঠেকে যায় ও। রবিন হেসে ওঠে। আমরা তিনজন এগুতে থাকি। মেয়েটাকে দেখে মনে হয় নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ভয়ে, আতঙ্কে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে অবিরাম পানি ঝরছে। আবির আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

- ঐ ব্যাটা, মিউজিক সিস্টেমটা চালু করে দিয়ে আয়।

( নভেম্বর ৭, ২০১২ )