কন্টেন্টে যাও

নিম্মি #৮

রিশাদ ব্যাগ থেকে একটা মোমবাতি বের করে সামনের টেবিলের মাঝখানটায় রাখলো। পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে মোমবাতিটা ধরিয়ে দিলো। নিম্মি সন্দেহের চোখে লাইটারটার দিকে তাকিয়ে বললো,

তুই স্মোক করিস নাকি?

লাইটারটা বন্ধ করে রিশাদ অবাক হয়ে নিম্মির দিকে তাকালো,

না তো! কেন?

নিম্মি আঙুল তুলে রিশাদের হাতের লাইটারটার দিকে ইশারা করলো।

ওহ! আরে নাহ! এমনিই রাখি, আরো অনেকগুলা আছে আমার। ধর এইটা, গিফট করলাম তোকে।

নিম্মি এইবার চোখ বড় বড় করে ফেললো,

তুই অনেকগুলা লাইটার দিয়ে করিস কি? আর আমিই বা এইটা দিয়ে করবো কি?

কি করবি তোর ব্যাপার। ধরতে বলেছি ধর, তারপর ইচ্ছা করলে ডাস্টবিনে ফালায়ে দিবি।

নিম্মি হাত বাড়িয়ে লাইটারটা নিলো। একদম সাধারণ দেখতে, বেশ ভারী, চকচকে স্টিলের, মুখের সামনে ধরলে আয়নার মতো স্পষ্ট চেহারা দেখা যায়। লাইটার বলে চেনারও উপায় নেই বাইরে থেকে, দেখে মনে হয় নিরেট লোহার খন্ড। নিম্মি লাইটারটা নিতেই রিশাদ আবার কথা বলতে শুরু করলো,

তোর সামনে যে মোমবাতিটা জ্বলছে সেটার একটা স্পেশালিটি আছে, জানিস? অথবা একটা কুসংষ্কার।

নিম্মি কিছু না বলে রিশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির আভাস। উত্তর না পেলেও রিশাদ কথা চালিয়ে যাবে জানা আছে তার।

আচ্ছা বাদ দে। উইশ মি বার্থডে।

আজকে তোর বার্থডে! আগে বলিস নি কেন?!

রিশাদ বিরক্তিসূচক একটা শব্দ করে বললো,

আগে বলার কি আছে? উইশ না করলে না করলি। মোমবাতিতে ফুঁ দে।

আশ্চর্য! তোর মোমবাতিতে আমি ফুঁ দেবো কেন?

কারণ, আমি এইসব চমৎকার কুসংষ্কারে বিশ্বাস করি না।

কি কুসংষ্কার? আর তোর কেক কই? শুধু মোমবাতি নিয়ে বসে আছিস কেন?

কেক নাই। মনে মনে কোন উইশ করে জন্মদিনের মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভালে সেই উইশ নাকি পূরণ হয়ে যায়। তবে শর্ত আছে, সেই উইশের কথা কাউকে বলা যাবে না, বললে আর নাকি হয় না। কোন মানে হয় এইসব বিশ্বাসের!

নিম্মি রিশাদের বলার ভঙ্গি দেখে হেসে ফেললো,

এসব এতো সিরিয়াসলি নেয়ার কি আছে? আর আমাকে মোমবাতিতে ফুঁ দেয়ার প্রক্সি বানানোই কি তোর সেই চমৎকার কাজ?

রিশাদ একমূহুর্ত চিন্তা করে বললো,

সম্ভবত। এটাকে একধরণের শখ বলতে পারিস, অবশ্য অন্য কিছুও হতে পারে। জন্মদিনে অন্য কাউকে মোমবাতিতে ফুঁ দিতে বলি, সাথে একটা উইশ করতে। তারপর উইশটা শুনে সেটা পূরণ করি।

নিম্মি কৌতূকের সুরে বললো,

সব উইশ তুই পূরণ করতে পারিস?

রিশাদের কাছে সম্ভবত কৌতূকের সুরটা ধরা পড়লো না, আগের সুরেই কথা বলতে থাকলো,

এখনো পর্যন্ত তো পেরে এসেছি। আজকে দেখা যাক পারি কি না। অবশ্য তোর ইচ্ছা না হলে দরকার নেই…

বলেই রিশাদ মোমবাতির দিকে হাত বাড়ালো। নিম্মি থামালো তাকে,

দাঁড়া, তোর যখন শখ তাহলে তো প্রক্সি দেয়াই লাগে।

রিশাদ মুচকি হেসে হাত টেনে নিলো। নিম্মি কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো ভাবতে। তারপর ফুঁ দিয়ে মোমবাতিটা নিভিয়ে দিলো। রিশাদ বললো,

কি খাবি বল।

উইশের কথা শুনবি না?

পরে শোনা যাবে। এতো তাড়াহুড়া নাই কোন।

নিম্মি টেবিলে পড়ে থাকা মেনুটা হাতে নিলো। দু’এক পাতা উল্টে রেখে দিলো সেটাকে। রিশাদের দিকে তাকিয়ে বললো,

আইসক্রিম।

নিম্মির কথা শুনে রিশাদ টেবিলের পাশের কাঁচের দেয়াল দিয়ে বাইরে আকাশের দিকে তাকালো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমেছে মাত্র, কিন্তু চারপাশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। রিশাদ তাকাতেই আলোর একটা ঝলকানি দেখা গেলো আকাশে, তারপর মৃদু মেঘের গর্জন।

একটু পরই মনে হয় বৃষ্টি নামবে, আর তুই এই বৃষ্টির ভেতর আইসক্রিম খাবি! আজব!

হুম, খাবো। তোর কোন প্রবলেম? তোর প্রবলেম হলে তুই অন্য কিছু নে।

রিশাদ হাল ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গিতে বললো,

নাহ, প্রবলেম আর কি হবে। আইসক্রিমই সই।

তারপর হাত উঁচু করে ওয়েটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বললো,

এক্সকিউজ মি…